ওয়ার্ডপ্রেস কী? তৈরির পেছনে কারা জড়িত এবং এর সুবিধা কী কী?

ওয়ার্ডপ্রেস সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আলোচিত শব্দ যখন মানুষ ওয়েবসাইট তৈরি নিয়ে কথা বলে। আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট বানাতে চান, কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেস এর ব্যাপারে এখনও কিছু না জানেন, তাহলে এই কাজে আপনি এখনও একজন শিশু! যারা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে তাদের কাছে ওয়ার্ডপ্রেস সবচেয়ে পরিচিত বিষয়।

ওয়ার্ডপ্রেস এর ক্ষেত্র অনেক বড়, এখানে জড়িত হওয়ার অনেক উপায় আছে। হাজার হাজার ওয়েবসাইট এর মালিক, ওয়েব ডেভেলপার তাদের সম্পূর্ণ জীবিকা নির্বাহ করে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ করে।

এই পোস্টটি পড়ার পর আপনি জানতে পারবেন ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে, ওয়ার্ডপ্রেস গড়ার পেছনের ইতিহাস, এবং ওয়েবসাইট তৈরিতে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের সুবিধা। সম্পর্ক গড়ার আগে জেনে নেয়া ভাল!

ওয়ার্ডপ্রেস কী?

এককথায় বলতে গেলে, ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে আপনি যা চাইবেন তাই! ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে প্রকাশের একটি মাধ্যম যেটা আপনাকে ইন্টারনেটে সহজেই আপনার কনটেন্ট প্রকাশে সাহায্য করবে। এবং এটা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন সাধারণ ব্লগ থেকে শুরু করে জটিল ওয়েবসাইট তৈরিতে। সাধারণ কথায় ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছেঃ

  • একটি ব্লগ অ্যাপ্লিকেশান
  • একটি কনটেন্ট পরিচালনা মাধ্যম (সিএমএস)
  • একটি অনলাইন প্রকাশ মাধ্যম
পিসি এবং মোবাইলে ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড
পিসি এবং মোবাইলে ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড

সুতরাং ওয়ার্ডপ্রেস একটি ব্লগ অ্যাপ্লিকেশান, একটি কনটেন্ট পরিচালনা মাধ্যম, এবং একটি অনলাইন প্রকাশ মাধ্যম যা পৃথিবী জুড়ে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট এর শক্তি জোগাচ্ছে। ওয়ার্ডপ্রেস লিখা হয়েছে প্রধানত পিএইচপি (সার্ভারে-যুক্ত প্রোগ্রামিং ভাষা) দিয়ে এবং তার সাথে যোগ করা হয়েছে MySQL অথবা MariaDB ডাটাবেস।

এটি একটি বিনামূল্যের এবং ওপেন-সোর্স অ্যাপ্লিকেশান। এটি বিনামূল্যের কারণ এটি কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্টানের কারণে গড়ে উঠেনি, এর পেছনে কাজ করেছে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ যারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে। যে কেউ এর উন্নতি এবং সংশোধনে অবদান রাখতে পারে কারণ এটি লাইসেন্স করা হয়েছে জেনারেল পাবলিক লাইসেন্স (GPLv2 এবং তার পরবর্তি) হিসেবে।

কী কী সম্ভাব্য বিষয়ে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা যাবে তার কোন সীমা নেই! আপনি ওয়ার্ডপ্রেস এর সীমা বাড়াতে পারেন একটি থিম এবং প্লাগইনদের সমন্বয়ে। একটি থিম ঠিক করবে আপনার ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে, ওয়েবসাইট কীরকম আচরণ করবে, এবং হাজারো প্লাগইন নতুন নতুন ফিচার যোগ করতে সাহায্য করবে।

ঐতিহ্যবাহী ব্লগ থেকে শুরু করে সংবাদপত্র, অনলাইন ম্যাগাজিন, টিভি স্টেশন, জাতীয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাইট – সবকিছুই ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করা যায়! শীর্ষ সংবাদ প্রতিষ্টান এবং ওয়েবসাইট যেমন সিএনএন, ফোর্বস, টাইম, দি নিউইয়র্ক টাইমস, ইবে, টেকক্রান্স, ইত্যাদি – সবাই ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে চালিত।

একটি সফল ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এর সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস-ডট-কম, যেটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ওয়ার্ডপ্রেস এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট মোল্যেনওয়েগ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অটোম্যাটিক, যেখানে আপনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার ওয়েবসাইট শুরু করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস-ডট-কম ওয়ার্ডপ্রেস এর ক্রমবর্ধমান মার্কেট শেয়ার এর একটি বড় কারণ।

W3Techs এর মতে, শতকরা প্রায় ৬৩টি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে যারা কনটেন্ট পরিচালনা করার অ্যাপস ব্যবহার করে, এবং সব মিলিয়ে শতকরা ৩৭টিরও বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাবহার করে! তার মানে, প্রতি ৩টি ওয়েবসাইট এর মধ্যে অন্তত ১টি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে এবং এই হার দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ওয়ার্ডপ্রেস প্রতিষ্ঠাতা, ইতিহাস এবং লক্ষ্য

২০০৩ সালে, তখনকার ব্লগিং সফটওয়্যার বি২/ক্যাফেলগ এর দুইজন ব্যবহারকারী, ম্যাট মোল্যেনওয়েগ এবং মাইক লিটল, প্রথম ওয়ার্ডপ্রেস তৈরি করেন। তারা এটি তৈরি করেছিল কারণ বি২/ক্যাফেলগ এর প্রধান ডেভেলপাররা তাদের প্রকল্পটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ক্রিস্টিনা শেলেক ট্রিমোলেট, মোল্যেনওয়েগ এর বন্ধু, ওয়ার্ডপ্রেস নামটির পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ওয়ার্ডপ্রেস প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট মোল্যেনওয়েগ এবং মাইক লিটল

২০০৩ সালের এপ্রিলে, ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাপ্লিকেশান রাখার জন্য ম্যাট চালু করেন ওয়ার্ডপ্রেস-ডট-অরগ ওয়েবসাইট, যেখানে ছিল সাপোর্ট ফোরাম, স্কিমা নথিপত্র, এবং একটি ডেভেলপমেন্ট ব্লগ। ২০০৩ সালের ২৭ই মে তারিখে, ওয়ার্ডপ্রেস এর প্রথম ভার্সন ০.৭ উন্মুক্ত হয়, যেখানে প্লাগইন এবং থিম ফিচার সমূহ যুক্ত ছিল না।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন পরিচয় করানো হয়েছিল ভার্সন ১.২ এ – যেটা উন্মুক্ত হয়েছিল ২০০৪ সালের ২২ই মে এবং থিম পরিচয় করানো হয়েছিল ভার্সন ১.৫ এ – উন্মুক্ত হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ই মে। প্লাগইন এবং থিম যুক্ত হওয়ার পরে, চারদিক থেকে প্রচুর সাড়া পাওয়া গিয়েছিল ওয়ার্ডপ্রেস এর ওপেন-সোর্স লাইসেন্স এর কারণে।

২০০৫ এর আগস্টে, ওয়ার্ডপ্রেস এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট মোল্যেনওয়েগ অটোম্যাটিক প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাপ্লিকেশান পরিচালনা করার জন্য। ২০০৫ এর ২১ই নভেম্বর, অটোম্যাটিক উদ্বোধন করে ওয়ার্ডপ্রেস-ডট-কম (ফ্রীমিয়াম ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং), যেখানে আপনি মিনিটেই আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট শুরু করতে পারবেন।

২০০৬ সালে, ওয়ার্ডপ্রেস এবং ওয়ার্ডপ্রেস লোগোর স্বত্ব নিবন্ধন করে অটোম্যাটিক। এর নিবন্ধনের পর উল্লেখ করার মত অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। বর্তমান চেহারার মত দেখতে নকশা প্রথম দেখা গিয়েছিল ২০০৮ সালে, যেটা আনা হয়েছিল ওয়ার্ডপ্রেস ২.৭ এর সাথে, যার ড্যাশবোর্ড দেখতে প্রায় বর্তমান ড্যাশবোর্ড এর মত।

ওয়ার্ডপ্রেস ২.৭ ড্যাশবোর্ড
ওয়ার্ডপ্রেস ২.৭ ড্যাশবোর্ড | ক্রেডিটঃ ওয়ার্ডপ্রেস-ডট-অরগ

প্রথম মোবাইল সংবেদনশীল ভার্সন ছিল ৩.৮ – উন্মুক্ত হয়েছিল ২০১৩ সালের ডিসেম্বর। আর ২০১৮ সালে, ওয়ার্ডপ্রেস ৫.০ নিয়ে আসে পোস্ট সংযোজনের সম্পূর্ণ নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন গুটেনবার্গ ব্লক এডিটর।

সাধারণত ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাপ্লিকেশান বছরে ৪টি বড় ধরনের আপডেট নিয়ে আসে। অনেক কোর অবদানকারী এই আপডেটে অবদান রাখে। যে কেউ ওয়ার্ডপ্রেস তৈরিতে অবদান রাখতে পারে এবং যে কেউ একে আরও ভালোর দিকে নিতে পারে। একটা পরিসংখ্যান বলছে যে শতকরা ৬৩ ভাগ যারা ওয়ার্ডপ্রেস কোর গঠনে অবদান রাখে অটোম্যাটিক এর কর্মী নয়

২০১০ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ডপ্রেস এর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিল অটোম্যাটিক। ২০১০ এর সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে বড় পরিবর্তনটি সংগঠিত হয়, অটোম্যাটিক ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাপ্লিকেশান এবং ওয়ার্ডপ্রেস লোগোর মালিকানা হস্তান্তর করে ওয়ার্ডপ্রেস ফাউন্ডেশনকে, যেটিও প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মোল্যেনওয়েগ এর হাত ধরে।

এই সংস্থাটি গঠিত হয়েছিল আজীবন ওয়ার্ডপ্রেসকে সবার জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য। এই ঘঠনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এটাই ওয়ার্ডপ্রেস এর স্বাধীনতা নিশ্চিত করে যা কোনও প্রতিষ্ঠান, ডেভেলপার, বা সংগঠনের প্রভাব মুক্ত থাকবে এবং সবার সহযোগিতায় গড়ে উঠার নিশ্চয়তা দেয়।

এই সংস্থার উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেসকে আরও বেশি বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকারী দিয়ে। বর্তমানে অ্যাপ্লিকেশানটি ব্যবহার করছে পৃথিবীব্যাপী প্রায় ৩৭% এরও বেশি ওয়েবসাইট। ২০১৫ সালে ওয়ার্ডপ্রেস এর পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে বলতে গিয়ে মোল্যেনওয়েগ সরাসরি ৫০% শেয়ার অর্জন করার কথা বলেছিলেনঃ

পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ ওয়েবসাইট। আমরা ৫০%+ এ যেতে চাই এবং সেখানে এখন এবং তখনকার মাঝে অনেক কাজ আছে। শতকরা ভাগ যত বাড়ছে, ততই ভাগ বাড়ানো কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে, এবং আমাদেরকে আগে যা করিনি তা করেই শেয়ার অর্জন করতে হচ্ছে – সত্যিই ভাবতেছি চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে, সত্যিই ভাবতেছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সম্পৃক্ততা নিয়ে, এবং কীভাবে টাচ-স্ক্রীনে ওয়ার্ডপ্রেস কাজ করে, যা ভবিষ্যতে কম্পিউটার জগতে আধিপত্য বিস্তার করতে চলেছে। এই বিষয়গুলো সত্যিই অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়াবে।

তিনি আরও বলেন যে এই লক্ষ্যে পৌঁছতে নতুন পরিকল্পনা দরকার, যার মধ্যে আছে ক্রমবর্ধমান মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন। এবং তারপর নতুন লক্ষ্য ঠিক করা হবেঃ

যেটা আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে তা আমাদের ঐখানে নিবে না। যখন আমরা ৫০% এ পৌঁছব তখন আমরা নতুন কী করতে চাই সিদ্ধান্ত নিব।

এই ৫০% লক্ষ্য থেকে বেশি দুরে নয় ওয়ার্ডপ্রেস এবং এই হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমানে, ওয়ার্ডপ্রেস এর দখলে আছে ৩৭ শতাংশেরও বেশি শেয়ার এবং ৬৫ মিলিয়নেরও বেশি ওয়েবসাইটে এটি ইন্সটল করা আছে!

ওয়ার্ডপ্রেস কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করছে ব্যবহারকারীদের চাহিদার উপর। এটি পৃথিবীব্যাপী হাজার হাজার মানুষকে স্বাবলম্বী করেছে, তাই আমরা সহজে অনুমান করতে পারি যে এটি ভবিষ্যতেও তাই করবে।

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের প্রধান সুবিধা সমূহ

২০০৩ সালের যাত্রা শুরুর পর থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগিং সফটওয়্যার ওয়ার্ডপ্রেস। আর গত কয়েক বছর ধরে, ব্লগ ছাড়া ওয়েবসাইটদেরও সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার হয়ে গেছে ওয়ার্ডপ্রেস।

ওয়ার্ডপ্রেসের এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণ কী? কেন বেশির ভাগ মানুষ ওয়ার্ডপ্রেস পছন্দ করে? চলুন তাহলে কনটেন্ট পরিচালনা করার মাধ্যম হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের সুবিধাগুলো জেনে নিইঃ

১। ওয়ার্ডপ্রেস সবার জন্য মানানসই

ওয়ার্ডপ্রেস শুধুমাত্র ব্লগিং সফটওয়্যার হিসেবে যাত্রা করলেও এরপর থেকে পরিপূর্ণ কনটেন্ট পরিচালনার সফটওয়্যারে রূপ নিয়েছে। আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করতে পারেন একটি ব্লগ, ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট, ইকমার্স ওয়েবসাইট, ব্যবসায়িক পথরেখা, প্রশ্নোত্তর ওয়েবসাইট, ধর্মীয় ওয়েবসাইট, কার্জবিন্যাস, অনলাইন পরিবার, ইত্যাদি।

একটি থিম ও প্লাগইনদের সমন্বয়ে, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে খুবই অল্প সংযোজন করে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ওয়েবসাইট বানানো যায়।

আপনি যদি ঠিক যা চান তা নাও পান, তাহলে আপনি সহজেই নিজের প্লাগইন বানাতে পারেন বা থিম আপনার পছন্দমত। আর এই সুবিধাগুলোর জন্যই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে।

২। সাধারণ এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য পরিবেশ

ওয়ার্ডপ্রেস এর রয়েছে খুবই সাধারণ কাজের পরিবেশ যা শেখা অত্যন্ত সহজ এমনকি কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও। আপনার যদি ওয়ার্ড প্রসেসিং বা অন্য যেকোন কম্পিউটার প্রোগ্রাম নিয়ে জানাশোনা থাকে, তাহলেই আপনি কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে হয় শিখে নিতে পারবেন এবং এর বিভিন্ন ফিচারের মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে প্রাথমিকদের জন্য উপযোগী এবং যারা তেমন বেশি দক্ষ নয় তাদেরও সফলতার সাথে নিজের ওয়েবসাইট তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে। আপনি যখন লগইন করা শিখে যাবেন তখন আপনি দ্রুত সবকিছু খুঁজে নেওয়ার পথও পাবেন এবং কনটেন্ট এডিট করা বা পোস্ট এডিট করা ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহারের মতই সহজ।

৩। ওয়ার্ডপ্রেস এসইও এবং মোবাইল উপযোগী

এসইও দিয়ে বুঝানো হয় সার্চ ইঞ্জিনের জন্য সাজানো। ওয়ার্ডপ্রেস এর অভ্যন্তরে কোড অত্যন্ত সাজানো এবং সাধারণ, যেটা সার্চ ইঞ্জিনের জন্য সহজ করে দিয়েছে আপনার সাইট পড়তে এবং সার্চে যোগ করতে।

তার সাথে, প্রত্যেক পেইজ, পোস্ট, এবং ছবি রাখতে পারবেন নিজস্ব টাইটেলে, মেটা বর্ণনা দিয়ে, এবং নির্দিষ্ট শব্দের জন্য এদের সাজাতে পারবেন, যা সার্চ ইঞ্জিনরা পছন্দ করার সব রাস্তা খুলে দিয়েছে।

গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনরা ওয়ার্ডপ্রেস পছন্দ করে যেহেতু এটি সার্চ ইঞ্জিনের জন্য সাজানোর কাজ ৮০-৯০% করে রাখে যা আপনার ওয়েবসাইট এর সার্চ ইঞ্জিনে লিপিবদ্ধ হওয়া নিশ্চিত করে, যেটা আপনাকে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটা দারুণ সুযোগ এনে দিবে।

ওয়ার্ডপ্রেস এমনভাবে তৈরি হয়েছে যা আধুনিক মোবাইল ডিভাইসে দরকার এবং এর থিম সংগ্রহশালায় শত শত বিনামূল্যের থিম আছে যেগুলো সম্পূর্ণ সংবেদনশীল এবং চালনার জন্য প্রস্তুত। সুতরাং যখন একজন ভিজিটর কোন ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট মোবাইল, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার থেকে ভিজিট করেন, তখন এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইস অনুযায়ী কাজ করে।

৪। ওয়ার্ডপ্রেস নিরাপদ এবং ঝুঁকিহীন

ওয়ার্ডপ্রেস বানানো হয়েছে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে, নিরাপত্তার হালনাগাদ গুলো ওয়ার্ডপ্রেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে, এবং তাই এটি যেকোন ওয়েবসাইটে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ এবং ঝুঁকিহীন হিসেবে বিবেচিত হয়।

ওয়ার্ডপ্রেস-ডট-অরগ-এ থাকা থিম এবং প্লাগইন সমূহ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখে ওয়ার্ডপ্রেস পরিবার, তারা মেয়াদউত্তীর্ণ এবং ভয়ংকর কোড নজরদারিতে রাখে সবসময়। কখনও তারা এধরনের পরিবর্তন বাতিল করে, কখনও মেয়াদউত্তীর্ণ থিম এবং প্লাগইনদের জন্য সতর্কতামূলক বার্তা থাকে, এবং কখনও এধরনের সন্দেহজনক জিনিসগুলো সেখান থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে দেয়া হয়।

যেহেতু ওয়ার্ডপ্রেস অনেক জনপ্রিয় এবং আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, হ্যাকাররাও প্রায় সময় একে লক্ষ্যবস্তু করে। যাহোক ওয়ার্ডপ্রেস প্রোগ্রামাররা হ্যাকারদের বিষয়ে এবং যে ধরনের কর্মকান্ড তারা করে সেসব বিষয়ে অবগত আছে, তাই তারা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের এবং হোস্টিং প্রতিষ্ঠানের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একে যথাসম্ভব নিরাপদ রাখতে কাজ করে।

৫। মজবুত গ্রাহক সেবা

ওয়ার্ডপ্রেসের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার আরেকটি গুরুত্তপূর্ণ কারণ হচ্ছে গ্রাহক সেবা, যেখানে রয়েছে হাজার হাজার দক্ষ সেবাদানকারী যারা বিভিন্ন ফোরামে বিনামূল্যে ওয়ার্ডপ্রেস সেবা দিয়ে থাকে।

ওয়ার্ডপ্রেস এর অফিশিয়াল ফোরাম কোন নির্দিষ্ট থিম বা প্লাগইনের সমস্যা সমাধানের জন্য সবচেয়ে ভাল, যেখানে সরাসরি লেখকের উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অফিশিয়াল ফোরাম ছাড়া আরও অনেক ফোরাম আছে যেমন ওয়ার্ডপ্রেস-স্টেক-এক্সচেঞ্জ, যেখানে আপনি জটিল ওয়ার্ডপ্রেস হ্যাক সম্পর্কে জানতে পারবেন।

শেষ কথা

ওয়েবসাইট বানানো এবং পরিচালনা করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হাতিয়ার হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। কনটেন্ট পরিচালনা করার মাধ্যম হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেস এর একছত্র আধিপত্য যার কারণে আপনি ওয়েবসাইট তৈরিতে ভরসা করতে পারেন।

সাইট কনটেন্ট পরিচালনা এবং ফাংশন বাড়ানোর জন্য আরও অনেক অ্যাপ্লিকেশান আছে যেমন দ্রোপাল, জুমলা, ম্যাগনেটো, ইত্যাদি কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেসই সর্বজনগ্রাহ্য এবং সার্চ ইঞ্জিন উপযোগী অ্যাপ্লিকেশান।

যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট খোলার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস খুবই কার্যকর একটি মাধ্যম। আমাদের হাতে থাকা সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যমগুলোর মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস একটি। হ্যাঁ অবশ্যই! বাইডিকও ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েই চালিত।

Leave a Reply

Email address will not be published. Remember to keep comments follow our guidelines.